|
ইউকেবিডি ডেস্ক :: কানেকটিকাটের ম্যানচেস্টারে নব গঠিত বায়তুল মামুর মসজিদেগত ৪ ফেব্রুয়ারি শনিবার প্রথম বারের মত পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী পালিত হয়। ঐদিন বিকেলে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবীর প্রথম পর্বে পবিত্রকোরান তেলাওয়াত করেন আনোয়ার হোসেন। এর পর শুরু হয় শিশু-কিশোরদের জন্য কেরাত প্রতিযোগিতা।
এতে অংশ গ্রহণ করে সাদিয়া, মাহিন, রাহিন, সাফিম, সামির,আনিসা,আরিয়ান, ইতু, নওফা, নুহা,কামরুল,সামিন, নাবিলা এবং মুবিন। ইসলামিক গজল পরিবেশন করেন ফজলুর রহমান ও আনোয়ার হোসেন। কেরাত প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরষ্কার বিতরন করেন বায়তুল মামুর মসজিদের সভাপতি নুরুল ইসলাম। উক্ত মিলাদুন্নবী অনুষ্ঠানে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ)-এর জীবনী নিয়ে আলোচনা করেন বায়তুল মামুর মসজিদের ইমাম মাওলানা জুবায়ের আহমেদ।কানেকটিকাটের বিভিন্ন শহর থেকে আগত অর্ধশতাধিক ধর্মপ্রাণ নারী-পুরুষ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ঈদ-ই-মিলাদুন্নবীর অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করেন।প্রকাশ থাকে যে, ম্যানচেস্টারের স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে মিলাদ ও মিলাদুন্নবীর বিরোধীতাসহ নানারকম মন্তব্য করে আসছিল। বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে তারা এ প্রসঙ্গে নানারকম ফতোয়া ও মিলাদের অপব্যাখ্যাও প্রকাশ করেন। তাদের সকল প্রকার বিরোধীতার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বায়তুল মামুর মসজিদ কর্তৃপক্ষ প্রথমবারের মত পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী পালন করে।
উল্লেখ্য, হিজরি সনের ১২ রবিউল আউয়াল মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) জন্ম নেন, আবার ঠিক এই দিনেই তিনি ওফাত বরণ করেন। সারা বিশ্বের মুসলমানদের কাছে দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও মৃত্যুদিবসটি মুসলমানরা অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে উদ্যাপন করেন। মহানবী (সা.)-এর জন্ম ও ওফাত দিবসটি মুসলমানদের কাছে পবিত্র দিন। মহানবী (সা.)-এর জন্মদিন হওয়ায় একদিকে দিনটি যেমন আনন্দের, তেমনি তাঁর ওফাত দিবস হওয়ায় বেদনারও। মহানবী (সা.)-এর আবির্ভাব এবং ইসলাম ধর্মের প্রচার সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। মহানবী (সা.)-এর গুরুত্ব সম্পর্কে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পবিত্র কোরআনে বলেছেন, 'মুহাম্মদকে সৃষ্টি না করলে আমি পৃথিবী সৃষ্টি করতাম না।' ৫৭০ খ্রিস্টাব্দের এই দিনে প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) পবিত্র মক্কা নগরীর সম্ভ্রান্ত কুরাইশ বংশে মা আমেনার গর্ভে জন্ম নেন। জন্মের পর থেকে ওফাতের আগ পর্যন্ত এই মহামানব সব অনাচার, কুসংস্কার ও বৈষম্য দূর করে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় অনবদ্য ভূমিকা রাখেন। ৪০ বছর বয়সে ওহি মারফত নবুয়তপ্রাপ্ত হন হজরত মুহাম্মদ (সা.)। তিনি সব কুসংস্কার, গোঁড়ামি, অন্যায়, অবিচার ও দাসত্বের শৃঙ্খল ভেঙে মানবসত্তার চিরমুক্তির বার্তা বয়ে এনেছিলেন। মহানবী (সা.) দীর্ঘ ২৩ বছর বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে এ আহ্বান পৌঁছে দিয়ে ৬৩ বছর বয়সে চিরবিদায় নেন। সেই দিনটিও ছিল ১২ রবিউল আউয়াল।
|