|
আবুল কালাম আজাদ :: দু’মাস দশ দিনে সরকার ব্যাংকঋণ পরিশোধ করেছে পাঁচ হাজার ৭৯২ কোটি ১৭ লাখ টাকার সমপরিমাণ। চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে সরকারের ব্যাংকিং মাধ্যম থেকে নেওয়া নিট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৪১১ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। জানুয়ারির ২৯ তারিখ পর্যন্ত সময়ে এ ঋণ নিয়েছে সরকার।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের করা সর্বশেষ পরিসংখ্যানে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
গত নভেম্বরের ২১ তারিখ পর্যন্ত এ খাত থেকে সর্বাধিক ঋণ নিয়েছিল সরকার। তখন সরকারের ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ২২ হাজার ৪০০ কোটি টাকা; কিন্তু নভেম্বরের শেষ সময়ে এসে সরকার ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নেওয়ার পরিবর্তে বরং পরিশোধ করতে শুরু করে। তখন থেকেই মূলত ব্যাংকঋণ কমতে থাকে সরকারের। বর্তমানেও এ ধারা অব্যাহত রয়েছে। আলোচ্য সময়ে সরকার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করেছে বেশি মাত্রায়। এ পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণের ৭০ শতাংশ পরিশোধ করেছে সরকার। গত ২১ নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে সরকার শুধু কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছিল প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকার মতো। অন্যদিকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে এ সময়ে নেওয়া ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় আট হাজার কোটি টাকা। বর্তমানে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সরকারের নেওয়া নিট ঋণের পরিমাণ ৬ হাজার ৫৯৪ কোটি টাকা। কেন্দ্রীয় ব্যাংক নতুন টাকা ছাপিয়ে, ট্রেজারি বিল ও বন্ড এবং সরকারের গচ্ছিত আমানত থেকে এ ঋণ নিয়ে থাকে। নতুন টাকা ছাপানোর ফলে যেহেতু বাজারে টাকার সরবরাহ বেড়ে যায়, ফলে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যায়। সে কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নিলে সার্বিক অর্থনীতিতে একটা নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। অন্যদিকে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত নেওয়া নিটঋণ ৯ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা। অর্থাত্ এখন সরকারের সার্বিক ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণের পরিমাণ কমলেও একক হিসাবে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে ঋণের পরিমাণ বাড়ছে। যেটি দেশে নতুন শিল্প-কারখানা প্রতিষ্ঠায় প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করবে বলে অর্থনীতিবিদগণ মনে করছেন।
সরকারের নেওয়া ব্যাংকঋণ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর ও বর্তমানে কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান খোন্দকার ইব্রাহীম খালেদ বলেন, বাজেটে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার মধ্যেই সরকারের ব্যাংকঋণ সীমাবদ্ধ থাকবে। কারণ বিভিন্ন দাতা সংস্থার কাছ থেকে সরকার ঋণ ছাড়ের বিষয়ে এরই মধ্যে বেশ এগিয়েছে। এ ছাড়া সরকার কুইক রেন্টালে তেল জোগান দিতে এটি আমদানির জন্য ব্যাংক থেকে অর্থবছরের শুরুর দিকে কিছু বেশি ঋণ নিয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে সরকার এসব বিদ্যুৎকন্দ্রে তেলের সরবরাহ বেসরকারি খাতেই ছেড়ে দিয়েছে। এ কারণে সরকারের ব্যাংকঋণ আরও কমে আসবে এবং অর্থবছর শেষে এটি লক্ষ্যমাত্রার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, চলতি সপ্তাহে ডেভিড ক্রাউনের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফরে আসবে। এ সফরের সময় বর্ধিত বাজেট ব্যয় মেটাতে তাদের প্রতিশ্রুত অর্থ ছাড়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। এর আওতায় প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে দেড় বিলিয়ন ডলার ঋণ পাওয়া যাবে বলে এ কর্মকর্তা বলেন। তিনি আরও বলেন, এ ঋণ ছাড় পেতে জুন নাগাদ সময় লাগতে পারে। ফলে ব্যাংকঋণ কমার পাশাপাশি মুদ্রাবাজারে চলমান সঙ্কট প্রশমন হবে বলে তিনি জানান।
সম্প্রতি এক মতবিনিময় সভায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ব্যাংকঋণ নিয়ে হৈচৈ করার কিছুই নেই। এটি সব সময় পরিবর্তন হতে পারে। বর্তমানে আমরা ঋণ নেওয়ার বিপরীতে পরিশোধ করছি, আবার যখন প্রয়োজন পড়বে তখন নেব।
|